চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাংবাদিক সম্মেলনে এম এ ওয়াদুদ

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাংবাদিক সম্মেলন

প্রতিবেদক : অভিজিত রায়
গত ২৩ নভেম্বর চাঁদপুর প্রেসক্লাবে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী, সমাজ বিরোধী, সরকারি অর্থ তসরুফকারী, সন্ত্রাসি, খুনের দায়ে অভিযুক্ত, স্বার্থ লোভী ব্যক্তিবর্গের সাংবাদিক সন্মেলনের জবাবে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ।

রোববার ২৪ নভেম্বর দুপুর ১২টায় চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হলরুমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ।

তিনি তার বক্তব্য বলেন, আমি কোন নোংরামিতে অভ্যস্ত নই, এর শিকারও হয়নি। আমাদের যা সম্পদ আছে, তা পৈত্রিক সম্পত্তি। অবৈধ ভাবে দখলের কোন সম্পত্তি নেই। আমরা আমাদের বৈধ সম্পদের খাজনা দিয়ে থাকি। আমি এই সংসদের নির্বাচিত কমান্ডার। যারা আমার বিরুদ্ধে ও সংসদের বিষয়ে কথা বলেছে, তারা গঠনতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন করেছে। গঠনতন্ত্রের ২৮ এর ক ধারায় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া পর পরিবর্তে দায়িত্ব পালন পালন করা যায়। আমি কোন গায়ের জোরে কথা বলছি না, আমি কোন ভাবেই অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করছি না। এ ভবনের ১১ টি দোকান ১৪শ’ ৫০ টাকা করে দোকানদাররা ব্যাংকে টাকা জমা দেয়। তাহলে আমি কি ভাবে টাকা আত্মসাৎ করলাম। তারা সংসদের দ্বায়িত্ব থাকাকালীন সংসদের সকল দোকান পজেশানে বিক্রি করে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে পান্না কায়সারকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করেছে তার কোন হদিস নাই। আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল মামলা ভিত্তিহীন ও ভূয়া। আমি খুব শিঘ্রই এসব বিষয়ের উপর আইনী প্রক্রিয়ায় যাবো এবং আজ যে সাংবাদিক সম্মেলন করছি তাও একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে।
লিখিত বক্তব্যে এম এ ওয়াদুদ উল্লেখ করেন, সংবাদ সম্মেলনে আমাকে ও আমার ভাই কুদ্দুসকে জড়িয়ে যে সকল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা পুরোপুরি ভূয়া ও অসত্য। তাদের সকল তথ্যই ছিল মনগড়, বানোয়াট ও অসদ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার জন্য।

আমি এম এফ বাহিনীর কমান্ডার ছিলাম, অভিযোগকারিদের দাবী সত্য। আমি মেঘনা অঞ্চল ক ফোর্সের আঞ্চলিক কমান্ডার ছিলাম, অভিযোগকারিদের এই দাবীও সত্য। আমি কোথাও কখনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃকি করিনি, অভিযোগকারিদের এই দাবী পুরোপুরি অসত্য। আমি কখনো চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য ছিলাম না, সুতরাং টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অসত্য। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান বরারদ্দ সময়কালে আমি দায়িত্বে ছিলাম না। ২০১০ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে আমি সংসদের দায়িত্ব গ্রহন করি। আমি ও আমার ভাই কুদ্দুস কখনো জাতীয় পার্টি বা ফ্রিডম পার্টির সদস্য ছিলাম না। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগকারী শহিদুল আলম রব সাবেক মন্ত্রী মায়া চৌধুরির পিতা আলি মিয়া হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন, যা স্থানীয় লোকমুখে শোনা যায়। এছাড়াও মতলবের পেষ্ট অফিস আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।

হানিফ পাটোয়ারি সম্পত্তির লোভে নিরিহ মানুষকে হত্যা করে কোড়ালিয়াকে আওয়ামীলীগ শুন্য করেছে। এমনকি আপন ভাই মুক্তিযোদ্ধা নান্নু পাটওয়ারীর হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যক্তি সে। তিনি তার ভাইয়ের হত্যার বিচার চায়নি, কিন্তুু আমরা তার ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়েছি।

এবং এস এম আব্দুর রশিদ নিম্ন পর্যায়ের ব্যাংকের কর্মচারী থাকা অবস্থায় অবৈধ অস্ত্র সহকারে গ্রেফতার হয়। এই তথ্য গোপন করে পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি আমলে বিশেষ কোটায় বিসিএস কর্মকর্তা পদে চাকুরি লাভ করেন।  চাকুরিকালে সাভারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে আর্থিক লাভবান হয়ে, উক্ত চেয়ারম্যানের শ্রমিকদের উপর গুলি চালিয়ে একজন শ্রমিককে হত্যা করেন। যে কারনে তাকে দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়। পরবর্তীকালে জাতীয় পার্টি শাসন আমলে মন্ত্রী মে. জে. শামছুল হকের সুপারিশক্রমে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়। সেখানেও তার দুর্নীতি অপ্রতিরোধ্য ভাবে চালিয়ে যায় এবং আবার তাকে সেখানে থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ওএসডি করে রাখা হয়। অতঃপর ২০০১সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রী নুরুল হুদাকে ম্যানেজ করে রাজউক এর এএলও পদের মতো লোভনীয় পদে নিয়োগ লাভের ব্যবস্থা করে।  তার চাকুরীজীবনে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ কোটি কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। তাছাড়া দেশে নামে বেনামে বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করে ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে।

মিয়া জাহাঙ্গীর ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসে যুদ্ধে অংশগ্রহন না করে, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি, নিরীহ মানুষের জমিজামা দখল ও তার চাকুরিস্থল ওয়াসায় কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা থাকার সুবাধে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেন। সে সময় তাকে গৃহবন্ধি করা হয়।

অভিযোগকারীদের অপকর্মের বর্ণনা এই স্বল্প পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না। তাদের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে সকলে অবগত আছেন। তারা আওয়ামীলীগ বিরোধী মহলের সাথে একাত্মতায় আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করে বিশেষ সুবিধা আদায় করে নিতে অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। তারা একটি বিশেষ এসাইন্টমেন্ট নিয়ে অবৈধ টাকার ঝলকানিতে সবাইকে বিভ্রান্ত করার কুকর্মে নিয়োযিত আছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে মতলব উত্তরের মায়া রানীর সম্পাদক দখলেরর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন, মতলবের দূর্গাপুর গ্রামের রমেশ ও কালীপদ মজুমদার। তারা বলেন, মায়া রানীরা তাদের সম্পদক তিন জনের কাছে বিক্রি করে পালিয়ে গেছে। সেই তিন পক্ষ এখনো বছরের পর পর মামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, মির্জা জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ আলম রোকন, সমাজ কল্যান সম্পাদক মুনওয়ার কানন, আলম পলাশ ও শাহাদাত হোসেন শান্ত প্রমুখ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাফিজ খান, সহকারী কমান্ডার ইয়াকুব আলী মাস্টার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী, দৈনিক চাঁদপুর সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আবদুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন, দৈনিক ইলশেপাড়েরর প্রধান সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের বার্তা সম্পাদক এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, দৈনিক মতলবের আলোর প্রধান সম্পাদক কে এম মাসুদ, দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইব্রাহীম রনি, সুদীপ্ত চাঁদপুরের বার্তা সম্পাদক এম আর ইসলাম বাবু, চাঁদপুর জেলা ফটো জানালিষ্ট এসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়েরসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Recommended For You

About the Author: Matlaber Alo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *