৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিষদে চাপ দেয়া যাবে না

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিষদে চাপ দেয়া যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার :
চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ)। এই সময় কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে টাকা নিতে কোনো বাধা থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণ শ্রেণিকরণ বা বকেয়া বা খেলাপি দেখানো যাবে না।  কোনো ঋণের শ্রেণিমান উন্নতি হলে বিদ্যমান নিয়ামানুযায়ী তা শ্রেণিকরণ করা যাবে। সংকটকালে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট কর্তৃক ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না।

মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব সনদপ্রাপ্ত সব ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত এবং নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে শিল্প, সেবা ও ব্যবসাখাত তাদের স্বাভাবিক কার‌্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

এসব বিষয় বিচেনায় এবং ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ের ওপর কভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কার্ডক্রম পরিচালনা ও ঋণ শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এমআরএ থেকে এর আগে গত ২২ মার্চ জারি করা অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি আদায় করা স্থগিত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে কোনো ঋণকে বকেয়া বা খেলাপি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। করোনার প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার এর মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার জারি করা সার্কুলারে আরও বলা হয়, গ্রামীণ ক্ষুদ্র অর্থনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সঞ্চয় নেয়া, জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, রেমিটেন্স সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে। তবে কোনো গ্রাহক যদি তার সঞ্চয় তুলে নিতে চায় সেগুলোও ফেরত দিতে হবে।

এ দিকে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন ঋণ দিতে পারছে না। এ সংকট মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এ সব অর্থ মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হবে। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ওই তহবিল থেকে ঋণ পাবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। এ অর্থ তারা মাঠপর্যায়ে বিতরণ করবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৪ শতাংশ সুদ আদায় করে।

সূত্র জানায়, ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনসহ বড় কিছু প্রতিষ্ঠানে রিজার্ভ তহবিল থাকায় তারা এখন নতুন ঋণ বিতরণ করতে পারছে।

Recommended For You

About the Author: Matlaber Alo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *