এলাকার কাক-পক্ষীও জানতো না মাশরাফির কথা!

mashrafi and wife

শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে গৃহপরিচারিকা টুনির বাড়ি ঘুরে গেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের যোগানিয়া কাচারি মসজিদ সংলগ্ন টুনির বাবা আক্কাছ আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি। প্রথমে বিষয়টি প্রথমদিকে গোপন ছিল। কাক-পক্ষীও জানতো না যে টুনির বাড়িতে ম্যাশ আসছেন। কিন্তু নিভৃত পল্লীতে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’র আগমনবার্তা কি আর চেপে থাকে! লোকজনের ভিড় সামলাতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা অবস্থানের পর মাশরাফিকে শেরপুর ত্যাগ করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবারের কোরবানির ঈদ মাশরাফির বাসাতে কাটলেও ঈদের পর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসার ইচ্ছে ছিল টুনির। আর তাই সেই ইচ্ছা পূরণে কেবল টুনিকে পাঠানো নয়, নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে তার সঙ্গে গোটা পরিবারের লোকজন নিয়েই টুনির বাবার গ্রামের বাড়ি নালিতাবাড়ীর নিভৃত পল্লীতে হঠাৎ করেই চলে আসেন মাশরাফি। শুক্রবার সকালে বাসা থেকে বের হলেও জুমার নামাজ পথেই আদায় করতে হয়। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা পরই হঠাৎ দুটি গাড়ি নিয়ে টুনিদের বাড়িতে হাজির হন টুনিসহ মাশরাফির পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

টুনির বাবা আক্কাছ আলী ক্রিকেট তারকা মাশরাফির বাসার নিরাপত্তা কর্মী থেকে বিদায় নিলেও তার পরিবারের প্রতি মাশরাফির রয়েছে দারুণ মমতা এবং নানা সহযোগিতা। তিনি আক্কাছ আলীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন, তাদের মাথাগোজার জন্য গ্রামের বাড়িতে একটি হাফবিল্ডিং টিনশেড ঘর করে দিয়েছেন। সর্বোপরি মাশরাফি টুনির ভবিষ্যত দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এখানে না এলে বিষয়টি আমরা জানতেই পারতাম না। সত্যিই ‘ম্যাশ দ্যা রিয়েল ক্যাপ্টেন, স্যালুট হিম।’

বয়স আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে আক্কাছ আলী ওই এপার্টমেন্ট থেকে বিদায় নিলেও মাশরাফির বাসাতেই রয়ে গেছেন তার মেয়ে টুনি। দীর্ঘ ৮ বছর সময়কালে মাশরাফির স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে টুনির গড়ে উঠেছে নিবিড় সম্পর্ক। মাশরাফি ও তার পরিবারও টুনিকে এখন তাদের পরিবারের একজন মনে করেন এবং সেভাবেই তার প্রতিপালন করে আসছেন, সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

Recommended For You

About the Author: News Room

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *